বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উপজেলা পরিষদ আমেজহীন ভোটে সরব প্রার্থীর
জাফরুল সাদিক,বগুড়া প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের ডাকে সাড়া নেই ভোটারদের। এখন প্রার্থীদের রাতদিন দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু ঘুমন্ত ভোটার। জাতীয় নির্বাচনের পর এখন উপজেলা নির্বাচন। গেল নির্বাচনের পর ভোটকে আর উৎসব বা আমেজ বলে মনে হয় না। কারণ গেল জাতীয় নির্বাচনের স্মৃতি সুখকর নয় ভোটারদের। তাই ভোট মানেই বাড়তি উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। হামলা-মামলা আর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো। ওইসব ঝক্কি ঝামেলাতে জড়ানো আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের কাজ না। ভোটের তিক্ত অভিজ্ঞতায় ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে এমনটিই জানালেন স্থানীয় ভোটাররা।
উপজেলা নির্বাচনে সবক’টি হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। উল্টো ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে না যেতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধিকাংশ ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন কিনা রয়েছে সংশয়। দল নিরপেক্ষ ভোটাররা বলছেন তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে চান না। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন আমরা ভোট কেন্দ্রে গেলেই কি। আর না গেলেই বা কি। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সারি জনশূন্য থাকলেও ভোটের বাক্স ঠিকই ভরে যায়। বিশাল ভোটের ব্যবধানে প্রার্থীও বিজয়ী হন। তা হলে ওখানে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীর মতো অযথা ফ্যাসাদে জড়ানোর কি দরকার। আর বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন গেল নির্বাচনের গায়েবি মামলায় অনেকেই এখন জেলহাজতে আছেন কিংবা জামিনে আছেন। আদালত আর বাড়ি এ ধরনায়ই এখন সময় পার। ওই দুঃষহ অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভ থেকে নির্বাচনী আলাপই করতে আগ্রহী নয় তারা। ভোটারদের সঙ্গে আলাপে জানা গেল- আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো বাড়তি আগ্রহ বা কৌতুহল নেই। বরং নির্বাচনের দিনক্ষণ পেরোলেই যেন তারা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। নির্বাচনকে ঘিরে হরদম চলছে মাইকিং, পোস্টারিং,প্রার্থীদের গণসংযোগ আর উঠান বৈঠক। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বাদ পড়েনি ভোটের কোনো আয়োজনই। প্রচার প্রচারণা রাতদিন একাকার। সবমিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা। তবে ভোট নিয়ে আগ্রহী হচ্ছেন না ভোটার। প্রার্থীরা সরব হলেও ঘুমন্ত ভোটার। এর কারণ হিসেবে জানা গেল জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে ভোটারদের এমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া। তারা ভোট থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই এ পর্যন্ত জনসমাগমের স্থানগুলোতেও দৃশ্যমান হচ্ছে না ভোটের সরব আলোচনা। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় ভোটের মাঠে প্রার্থীরা সরব হলেও উল্টো দৃশ্য ভোটারদের। ভোট নিয়ে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা কিংবা কৌতুহল এ জেলার ভোটারদের মধ্যে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে খুবই কম। উৎকণ্ঠায় থাকা ভোটারদের উজ্জীবিত করতে বাড়ি বাড়ি কর্মী-সমর্থক পাঠিয়েও তেমন সুফল মিলছে না এখনো। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হবে এমনটিই প্রত্যাশা প্রার্থীদের। একাধিক প্রার্থী জানালেন নির্বাচনে উৎসাহ-উদ্দীপনা আর আমেজ কোনোটাই তাদের পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১২ট ইউনিয়ন। উপজেলা নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ২শ’ ৯৮ জন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ৭ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) ২ জন প্রার্থীসহ মোট ১৪ জন প্রার্থী। তবে ভোটারদের নীরবতায় এ জেলার রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন ভোটাররা মনে করছেন এমন মনোভাব গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। নির্বাচনে দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক আহম্মেদ গত শনিবার সারিয়াকান্দি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নানের ছেলে মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সজলকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্ডীতা থেকে সড়ে দাঁড়ান।